ঢাকা, শনিবার, ২রা মার্চ, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

অনিয়মের হাফ ডজন অভিযোগ প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে

গাজীপুর মহানগরীর পূবাইলের হারবাইদ স্কুল এন্ড কলেজ

প্রতিবেদক গাজীপুর
অর্থ আত্মসাৎ, ব্যবহারিক পরীক্ষায় টাকা আদায় এবং অপ্রয়োজনীয় কেনাকাটাসহ অনীয়ম-দূর্নীতির নান অভিযোগ উঠেছে গাজীপুর মহানগরীর পূবাইলের হারবাইদ স্কুল এন্ড কলেজের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে। এ ব্যাপারে স্কুল পরিচালনা কমিটির তিন সদস্যে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তর ও জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের কারেছেন।

লিখিত অভিযোগকারীদের মধ্যে অভিবাবক সদস্য মইনুল ইসলাম নাঈম বলেন, বর্তমান কারিকুলামে ৬ষ্ঠ শ্রেণীর পরীক্ষা নেই। অথচ ৬ষ্ঠ শ্রেণীসহ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফটোকপির ভাউচার দিয়ে প্রধান শিক্ষক তুলে নিয়েছেন প্রায় ১৩ হাজার টাকা। ২০২২ সালের এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের কৃষি বিষয়ের ব্যবহারিক পরীক্ষার জন্য ৬০ ছাত্রের কাছ থেকে ৭০০ টাকা করে ৪২ হাজার টাকা উত্তোলন করে আত্মসাৎ কেেছন তিনি। গত বছর এক শিক্ষিকা মাতৃত্বকালীন ছুটিতে যান। ওই শিক্ষিাকার এক মাসের বেতনের টাকা স্বাক্ষর করে তুলে নেন প্রধান শিক্ষক। কিন্তু অদ্যবধি শিক্ষিকাকে টাকা দেননি। প্রতি সপ্তাহে অপ্রয়োজনীয় কেনাকাটার ভাউচার দিয়ে হাজার টাকা তুলে নিচ্ছেন প্রধান শিক্ষক। ক্রয় কমিটির সদস্য হয়েও তিনি (নাঈম) কেনাকাটা সম্পর্কে কিছুই জানেন না। এছাড়াও প্রশ্নপত্র ক্রয়, শিক্ষাবোর্ড, ডিসি ও শিক্ষা অফিসসহ বিভিন্ন দপ্তরে যাতায়ত এবং খাওয়া দাওয়া বাবদ টাকা তুলে নিচ্ছেন প্রধান শিক্ষক। এসব অভিযোগের প্রমাণসহ তারা সরকারী বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

অভিযোগকারী অপর অভিবাবক সদস্য তারিকুল ইসলাম বলেন, রেজুলেশন ছাড়া হাতে টাকা রাখার নিয়ম নেই। প্রধান শিক্ষক টাকা হতে রেখে ইচ্ছামত খরচ করছেন। স্কুল পরিচালনা কমিটির সিদ্ধান্ত ছাড়াই গত বছর শিক্ষার্থীদের এবং শিক্ষক বেতন বৃদ্ধি করেছেন। বার্ষিক ক্রীড়া অনুষ্ঠানের জন্য সুধীজন থেকে পাওয়া অনুদান প্রতিষ্ঠানের তহবিলে জমা না দিয়ে নিজে আত্মসাৎ করেছেন। প্রতিষ্ঠানের ১৪ জন শিক্ষক-কর্মচারীর উচ্চতর গ্রেড পরিবর্তনের জন্য প্রত্যেকের কাছ থেকে ৭ হাজার করে টাকা ঘুষ নিয়েছেন। অথচ গ্রেড পরিবর্তনের কাজের খরচ ভাউচার দিয়ে স্কুল ফান্ড থেকে তুলে নিয়েছেন। ইতিমধ্যে জেলা প্রশাসকের কাছে করা অভিযোগের প্রেক্ষিতে গাজীপুর সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. হাসিবুল ইসলাম এবং জেলা শিক্ষা অফিসারের কাছে করা অভিযোগের ভিত্তিতে জেলা শিক্ষা অফিসের সহকারী প্রোগ্রামার কবীর শাহাদৎ তদন্ত শুরু করেছেন।

মাতৃত্বকালীন ছুটিতে থাকা শিক্ষিকার টাকা নেওয়ার কথা অস্বীকার করে অভিযোগ প্রসঙ্গে প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ আবু নাঈম বলেন, ৬ষ্ঠ শ্রেণীর পরীক্ষা ভুলক্রমে নিয়েছেন। অন্য অভিযোগগুলো সঠিক নয়।

তদন্ত এখনো শেষ হয়নি জানিয়ে তদন্ত কর্মকর্তা মো. হাসিবুল ইসলাম বলেন, প্রাথমিকভাবে কিছু গড়মিল লক্ষ্য করা গেছে। এসব বিষয়ে প্রধান শিক্ষকের কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। আরো তদন্ত করা হবে। তদন্ত শেষ হলে প্রকৃত বিষয় উঠে আসবে।

শেয়ার করুনঃ

স্বত্ব © ২০২৩ ঢাকা মেইল ২৪