অর্থের অভাবে ডাক্তারি পড়া হচ্ছেনা মাহফুজের

লালমনিরহাট প্রতিনিধি || ২০২১-০৪-০৯ ০৫:০৫:১৬

image
অর্থের অভাবে ডাক্তারি পড়া হচ্ছেনা মাহফুজের। লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার মদাতী ইউনিয়নের মৌজা শাখাতী এলাকার দিনমজুরের ছেলে অদম্য মেধাবী শিক্ষার্থী মাহ্ফুজ ইসলাম। সে এবার মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ পেয়েও ভর্তির টাকা জোগাতে তার দিনমজুর পরিবার হতাশায় ভুগছেন। অভাবের সংসারে খুব কষ্টে পড়াশুনা চালিয়ে ২০২০-২০২১ শিক্ষাবর্ষে এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষায় কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ পান। উপজেলার মদাতী ইউনিয়নের মৌজা শাখাতী গ্রামের দিনমজুর মোশের্দ আলীর দিনমজুরের টাকায় চলে সাতজনের সংসার। সেই টাকায় কোন মতে চলে পাঁচ ভাই বোনের পড়াশোনার খরচ। সংসারে নুনআনতে পান্তা ফুরায় অবস্থা। জায়গা জমি বলতে বাড়ি ভিটে মাত্র ৫ শত জমি। দারিদ্রতার শেষ নেই। সবার বড় ছেলে মহিউদ্দিন অনার্স দ্বিতীয় বর্ষে পড়াশুনা করছেন কালীগঞ্জ করিমুদ্দিন সরকারী কলেজে। সবার ছোট ছেলে মেহেরাফ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৫ম শ্রেণিতে পড়ছেন। ভাইয়ের মধ্যে দ্বিতীয় মাহ্ফুজ ইসলাম। মাহ্ফুজ ইসলাম উপজেলার মৌজা শাখাতী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ২০১৮ সালে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ ও হাতীবান্ধা উপজেলার দইখাওয়া আদর্শ ডিগ্রি কলেজ থেকে ২০২০ সালে এইচএসসিতে জিপিএ-৫ পান। এলাকাবাসীর জানান, দিনমজুর মোশেদ আলীর ৫ ছেলে ও মেয়ে সবাই মেধাবী। সবার বড় দুই মেয়েকে বিয়ে দেন। তিন ছেলে মধ্যে মাহফুজ ইসলাম এবার মেডিকেলে ভর্তির সুযোগ পায়। কিন্তু ছেলের ভর্তির টাকা ও ৫ বছর পড়াশুনা করার মত তাদের সামর্থ্য নেই। দিনমজুর মোশেদ আলী বলেন, আমি একজন দিনমজুর নিত্য গরিব লোক। অনেক কষ্টে ছেলেকে লেখাপাড়া শিখাইছি। এখন আল্লাহ মর্জি আমার ছেলে ডাক্তারি চান্স পেয়েছে কিন্তু ডাক্তারি পড়াতে অনেক খরচ যাহা ব্যয় করার সামর্থ্য নেই। তাই কোন এনজিও বা কোন সংস্থা যদি সহযোগিতা করে তাহলে ইনশাআল্লাহ আমার ছেলেকে ডাক্তারি পড়াতে পারব। মাহফুজ ইসলামের মা মর্জিনা বেগম বলেন, আমার ৫ ছেলে ও মেয়েকে অনেক কষ্ট করে লেখাপাড়া করাইছি। অনেক সময় না খেয়েও ছিলাম। আমার জীবনে কোন দিন ছেলে ও মেয়েকে ১০ থেকে ২০ টাকা দিতে পারিনি হাত খরচের জন্য । এখন ছেলের ভর্তি ও পড়াশোনা জন্য অনেক টাকা লাগবে এত টাকা এখন কোথায় পাই। তাই কেই যদি একটু সাহায্য করত তাহলে আমার ছেলে ডাক্তারীর লেখা পড়া চলতো। মাহফুজ ইসলাম বলেন, আমার নিজস্ব চেষ্টায় অনেক কষ্ট করে লেখাপড়া করেছি। স্কুল ও কলেজের স্যাররা আমার কাছে কোন ফি নিতো না। টাকা অভাবে বই কিনতে পারি নি অন্যর বই পড়েছি। রংপুরে গিয়েও টাকা অভাবে কোচিং করতে পারিনি। মেডিকেলে ৫ বছর পড়া জন্য যে টাকা লাগবে তা আমার পরিবারে পক্ষে বহন করা সম্ভব না। সরকারী ও বেসরকারী ভাবে কেউ যদি সাহায্য করত তাহলে একজন সফল ডাক্তার হয়ে গ্রামের অসহায় গরিব মানুষের চিকিৎসা করতাম। মৌজা শাখাতী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তৌহিদুল ইসলাম বাবু বলেন, মাহফুজ ইসলাম প্রতিটি ক্লাসেই ভাল ফলাফল করে এসএসসিতে জিপিএ ৫ অর্জন করেন। সে একজন মেধাবী ছাত্র। দারিদ্রতার মাঝে পড়াশুনা চালিয়ে সে মেডিকেলে ভর্তি সুযোগ পেয়েছে তার সাফল্য কামনা করছি। দইখাওয়া আদর্শ ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ মোফাজ্জল হোসেন বলেন, মাহফুজের পরিবার অসচ্ছল হওয়ায় কলেজ থেকে তাকে বিভিন্ন ভাবে সহযোগিতা করে আসছি। সে মেডিকেলে ভর্তি সুযোগ পাওয়া আমরা গর্বিত। তার পরিবার দরিদ্র হওয়ায় মেডিকেলে পড়াশুনা করার জন্য সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আসার অনুরোধ জানান।

প্রকাশক ও সম্পাদক এম.এ.এম রানা

বাণিজ্য কার্যালয়ঃ ৩৮, মা ভবন (৩য়তলা), আব্দুলাহপুর, আইচি হাসপাতাল রোড, সেক্টর -০৮- উত্তরা, ঢাকা-১২৩০। ফোন ০১৮১৪ ২২৫১ ২৭

ই-মেইল : [email protected]