এম রানা:
নাটোর জেলা ট্রাফিক পুলিশের কনস্টেবল মো. নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে অঢেল সম্পদ অর্জনের অভিযোগ উঠেছে। তার ট্রাফিক পুলিশ বিভাগে ঘোষিত আয়ের সঙ্গে অর্জত সম্পদের অসামঞ্জস্য রয়েছে বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ তুলেছেন। একজন ট্রাফিক কনস্টেবলের অবসরে যাওয়ার পূর্বেই নাটোর শহরে কোটি টাকার বেশি সম্পদ। এ যেন আলাদ্দিনের চেরাগ। দীর্ঘদিন যাবৎ এসব সম্পদ ঘিরে চলছে নানা বিতর্ক, দেখা দিয়েছে নানা প্রশ্ন।
কনস্টেবল নজরুল ইসলাম বর্তমানে হাজরা নাটোর শহরের নিচাবাজার ট্রাফিক অফিস (টিআই) মো. রেজাউল করিমের অধীনে কর্মরত রয়েছেন।
স্থানীয় লোকজন বলেন, হাজরা নাটোরে ট্রাফিক কনস্টেবল নজরুল ইসলামের ৫ শতাংশ জমির ওপর ফাউন্ডেশন করা একটি বাড়ি রয়েছে। বর্তমানে বাড়িটির অনুমানিক মূল্য ৯০ লাখ টাকা। প্রায় ৮-৯ বছর আগে হাজরা নাটোর এলাকার মো. তারু মিয়া নামের এক ব্যক্তির কাছ থেকে স্ত্রী মর্জিনা বেগমের নামে ৫ শতাংশ জমি ক্রয় করেন তিনি। এরপর ওই জমিতে ফাউন্ডেশন বাড়ি নির্মাণ করেন। নাটোর মৌজার বলারীপাড়া জয়নাল হাজীর বাড়ির পূর্ব-উত্তর পাশে ৫ শতাংশ জমির আরো একটি প্লট রয়েছে তাঁর। ওই জমির বাজার মূল্য অনুমানিক ৫০ লাখ টাকা। প্রায় দেড় বছর পূর্বে আব্দুল বাসেদ মিয়া গংদের কাছ থেকে কিনে বড় মেয়ে মিলির নামে রেজিস্ট্রেশন করেন প্লটটি। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে তাঁর সব সম্পত্তি স্ত্রী ও কন্যার নামে কেনা। নাটোর হরিশপুর বাইপাস এলাকায় রয়েছে নজরুল ইসলামের আরো একটি ৫ শতাংশের প্লট। ওই প্লট মেয়ের নামে কেনা হয়েছে তা তিনি নিজেই স্বীকার করেছেন।
স্থানীয়রা বলেন, হরিশপুরের প্লটটির বর্তমান অনুমানিক মূল্য ৮০ লাখ টাকারও বেশি।
জানা গেছে, চাকুরির জীবনে তিনি নাটোর ছাড়াও ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি), বগুড়া, রাঙ্গামাটিসহ দেশের বিভিন্ন থানা ও পুলিশ ফাঁড়িতে চাকরি করেছেন। দুই বছর পূর্বে নাটোর ট্রাফিকে বদলি হয়ে আসেন। এরপর হাজরা নাটোরের বাড়ি থেকেই ট্রাফিকে কর্তব্য কাজ করে যাচ্ছেন।
প্রতিবেশীরা বলেন, ট্রাফিক কনস্টেবল নজরুল ইসলামের বাড়ি নওগাঁ জেলার আত্রাই থানার কয়রা এলাকায়। তাঁর বেতন, সমস্ত আয় ও সম্পদের পরিমাণের মধ্যে অনেক সামঞ্জস্য রয়েছে। আয়-ব্যয় ও সম্পদের পার্থক্যের কারণে মহল্লাবাসীর মধ্যে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। হাজরা নাটোর মহল্লাবাসীর প্রশ্ন সামন্য একজন পুলিশ সদস্য এতো টাকা পান কোথায়? এত সম্পত্তির মালিক তিনি কিভাবে হলেন! প্রতিদিন ব্যাগ ভর্তি বাজার, বিলাশবহুল জীবন-যাপন । চাকুরি করে কত টাকা বেতন পান তিনি।
চাকরি বিধি সূত্রে জানা গেছে, একজন পুলিশ সদস্য চাকুরি অবস্থায় স্ত্রী, সন্তান, আত্মীয়স্বজন বা চাকর-বাকর এমনকি নিজ নামেও যদি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের (আইজিপির) পূর্বানুমতি ছাড়া নিজ জেলাসহ অন্য জেলায় জমি, বাড়ি বা ফ্ল্যাট ক্রয় করতে পারেবেন না। কিনলে পুলিশ রেগুলেশনস অফ বেঙ্গল (পিআরবি) (আচরণ) বিধিমালা ১৯৭৯ ধারা অনুযায়ী অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। যা মূলত প্রশাসনিক শৃঙ্খলাভঙ্গ এবং অসদাচরণের শামিল। অভিযোগ প্রমানিত হলে বিভাগীয় মামলা দায়ের, চাকুরি থেকে বরখাস্ত এমনকি সম্পদ আয়ের উৎসের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠলে দুর্নীতি দমন কমিশন তদন্ত শুরু করতে পারে। আয়ের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ সম্পদ পাওয়া গেলে অবৈধ সম্পদ অর্জনের দায়ে ফৌজদারি মামলা হওয়ার বিধান রয়েছে। তাছাড়া দেশের নতুন ভূমি আইন (ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, (২০২৩) এবং সরকারি বিধি অনুযায়ী, অবৈধভাবে বা তথ্য গোপন করে অর্জিত সম্পত্তি সরকারের অনুকুলে বাজেয়াপ্ত হওয়ার আইনি ঝুঁকি রয়েছে।
অভিযোগের ব্যাপারে ট্রাফিক কনস্টেবল নজরুল ইসলাম বলেন, বাড়িটি তাঁর শ^শুরের টাকায় কেনা। আর অন্য সম্পত্তি মেয়ে কিনেছে। মেয়ে টাকার উৎস সম্পকে জানতে চাইলে বলেন, মেয়ের জামাই ঢাকায় র্যাংগস ভবনে চাকরি করেন। অনেক টাকা বেতন পায়।
নাটোর ট্রাফিক পলিশের পরিদর্শক মো. রেজাউল ইসলাম জানান, এ ব্যাপারে তিনি কিছু জানি না। ওই নামে একজন পুলিশ সদস্য আছে, বাড়ি কোথায় তা জানেন না। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এ ব্যাপারে বলতে পারবেন।
নাটোরের পুলিশ সুপার মেহাম¥দ আব্দুল ওয়াহাব জানান, লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




